parallax background

রাখাইন থেকে আসা শিশুদের জন্য ৭৮ হাজার কাপড় বিতরণ করবে ব্র্যাক

78,000 new clothes to children from Rakhine State of Myanmar
October 5, 2017
BRAC’s pink vests: On the ground with Asif Saleh
October 1, 2017

মিয়ানমারের রাখাইন থেকে চলে আসা অসহায় শিশুদের জন্য উখিয়া ও টেকনাফের ১০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৭৮ হাজার কাপড় বিতরণ করবে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। ইতিমধ্যে এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া ১০০০ শিশুদেরকে এসব কাপড় দেওয়া হয়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাকি কাপড়গুলো বিতরণ করা হবে।

এর পাশাপাশি রাখাইন থেকে চলে আসা অসহায় ১৭০০টি পরিবারকে ঠান্ডা থেকে রক্ষা ও বসাবাসের জন্য মাদুর দেওয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র আলোকময় করার জন্য ৩৪৫ টি পরিবারকে সৌর বাতি দেওয়া হয়েছে।

মিয়ানমার থেকে আগত প্রায় ৫ লাখ ৭ হাজার মানুষের মধ্যে ৬০ ভাগই শিশু। এই সঙ্কটপূর্ণ সময়ে শিশুরা সবচেয়ে বেশি বঞ্চনার শিকার হন। এই পরিস্থিতিতে ব্র্যাক ভুক্তভোগী শিশুদের জন্য এই উদ্যোগে গ্রহণ করে।

বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের পাঁচটি শিল্প-কারখানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব কাপড় দানে সহায়তা করেন। কারখানাগুলো হচ্ছে: হা-মিম গ্রুপ, গ্রাফিক্স টেক্সটাইল, ইকোটেক্স লিমিটিড, ফখরুদ্দিন টেক্সটাইল মিলস, স্যাটার্ন টেক্সটাইলস। এছাড়া আড়ং এর মাধ্যমে এসএফ ডেনিম এ্যাপারেলস লিমিটেড কাপড় দানে সহায়তা করে।

শিশুদের মানসিক চাপ কমাতে ইতিমধ্যে ৫৬টি শিশুবান্ধব কেন্দ্র স্থাপন করে প্রতিদিন ৩ হাজারেরও বেশি শিশুকে খেলাধুলা ও গল্প বলার মাধ্যমে বিনোদনমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে ব্র্যাক।

এইসব আশ্রয়কেন্দ্রে ব্র্যাক এই পর্যন্ত মানুষের বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের জন্য ৮৭৬টি টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। এছাড়া স্থাপন করা হয়েছে ২৭৬০ টি শৌচাগার। ব্র্যাকের ৬০ টি ভ্রাম্যমান সেবা কেন্দ্র থেকে এই পর্যন্ত ৭০ হাজার ৪২৯ জন অসহায় মানুষকে এই স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হয়েছে।

সারা দেশ থেকে একত্র হওয়া ব্র্যাকের ৬০০ এরও বেশি কর্মী সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। মূলত নারী ও শিশুদের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, টিউবওয়েল এবং শৌচাগার স্থাপনের মাধ্যমে নিরাপদ পানি, পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত উপকরণ সরবরাহ ও শিশুবান্ধব পরিসর গড়ে তোলায় কাজ করছেন তারা। এই কার্যক্রম চলছে আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা (আইওএম), ইউনিসেফ, ডব্লিউএফপি, অসএইড, ডিএফআইডি এবং গ্লোবাল ফান্ডের সমন্বয় ও সহযোগিতায়।

উল্লেখ্য, ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মিত উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয়শিবির পরিদর্শন ও সহায়তা কার্যক্রম তদারক করছেন।